পিএসজির বিপক্ষে সেই ৬-১ জয়ের স্মৃতি ফেরাল বার্সেলোনা, তবে সাম্প্রতিক ইতিহাসে এগিয়ে প্যারিসের ক্লাব

পিএসজির বিপক্ষে সেই ৬-১ জয়ের স্মৃতি ফেরাল বার্সেলোনা, তবে সাম্প্রতিক ইতিহাসে এগিয়ে প্যারিসের ক্লাব
পিএসজির বিপক্ষে সেই ৬-১ জয়ের স্মৃতি ফেরাল বার্সেলোনা, তবে সাম্প্রতিক ইতিহাসে এগিয়ে প্যারিসের ক্লাব
২০১৭ সালের ঐতিহাসিক ‘রেমোন্তাদা’ বার্সেলোনার গর্বের স্মৃতি। কিন্তু সাম্প্রতিক চ্যাম্পিয়নস লিগের লড়াইয়ে কাতালানদের বারবার হতাশ করেছে পিএসজি। এবার দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের আগে পুরোনো সেই রাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিল বার্সেলোনা।
কিছু রাত কখনো পুরোনো হয় না। ক্যালেন্ডারের পাতা বদলায়, বদলে যায় খেলোয়াড় ও কোচ, পাল্টে যায় দুই দলের শক্তির সমীকরণও। কিন্তু ফুটবল ইতিহাসের কিছু মুহূর্ত চিরকাল একই রকম উজ্জ্বল থাকে। বার্সেলোনার কাছে ২০১৭ সালের ৮ মার্চ তেমনই এক রাত। সেদিন প্যারিস সেন্ট-জার্মেইকে (পিএসজি) ৬-১ গোলে হারিয়ে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছিল কাতালানরা।

চ্যাম্পিয়নস লিগে আবারও পিএসজির মুখোমুখি হওয়ার আগে সেই স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে বার্সেলোনা। নিজেদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে দুই দলের অতীত লড়াই নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে ঐতিহাসিক সেই ‘রেমোন্তাদা’র কথা।
তবে অতীতের গৌরব স্মরণ করার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ের অস্বস্তিকর বাস্তবতাও এড়িয়ে যায়নি বার্সেলোনা। কারণ, দুই দলের সাম্প্রতিক দ্বৈরথে বেশির ভাগ সময়ই শেষ হাসি হেসেছে পিএসজি।
যে রাতে অসম্ভবকে সম্ভব করেছিল বার্সেলোনা
২০১৬-১৭ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে প্যারিসে পিএসজির কাছে ৪-০ গোলে হেরেছিল বার্সেলোনা। ফিরতি লেগের আগে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিতে যাচ্ছে কাতালান ক্লাবটি।
প্রথম লেগে চার গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে এর আগে চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে কোনো দল পরের রাউন্ডে উঠতে পারেনি। কিন্তু ন্যু ক্যাম্পে সেদিন সব হিসাব পাল্টে দিয়েছিল বার্সেলোনা।
ম্যাচের শেষ দিকে গিয়েও পরের রাউন্ডে ওঠার জন্য আরও তিনটি গোল প্রয়োজন ছিল তাদের। এরপর নেইমারের জোড়া গোল এবং যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে সের্হি রবার্তোর অবিশ্বাস্য গোলে ৬-১ ব্যবধানে জয় পায় বার্সেলোনা।
দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ গোলের ব্যবধানে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে কাতালানরা। ন্যু ক্যাম্পে সমর্থকদের উল্লাসে স্মরণীয় হয়ে থাকা সেই ম্যাচ চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তন হিসেবে জায়গা করে নেয়।
সাম্প্রতিক লড়াইয়ে বারবার এগিয়ে পিএসজি
তবে ফুটবল শুধু অতীতের গৌরব দিয়ে চলে না। সময়ের সঙ্গে বদলে যায় গল্পের নায়কও।
বার্সেলোনার ওয়েবসাইটে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, ২০২০-২১ ও ২০২৩-২৪ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে দুই দলের লড়াইয়ে জয় পেয়েছিল পিএসজি।
২০২০-২১ মৌসুমের শেষ ষোলোয় প্রথম লেগে বার্সেলোনাকে ৪-১ গোলে হারায় প্যারিসের দলটি। ফিরতি লেগে ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ ব্যবধানে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেয় বার্সেলোনা।
এরপর ২০২৩-২৪ মৌসুমের কোয়ার্টার ফাইনালেও দেখা হয় দুই দলের। প্রথম লেগে প্যারিসে ৩-২ গোলে জিতে আশার আলো দেখিয়েছিল বার্সেলোনা। কিন্তু ফিরতি লেগে নিজেদের মাঠেই ৪-১ গোলে হেরে যায় তারা। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে পিএসজি।
গত মৌসুমেও বার্সেলোনার মাঠে গিয়ে ২-১ গোলে জয় পেয়েছিল প্যারিসের ক্লাবটি। ফলে ২০১৭ সালের ঐতিহাসিক জয় এখনো বার্সেলোনার সমর্থকদের কাছে গর্বের হলেও সাম্প্রতিক ফলাফল কাতালানদের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে আছে।

পয়েন্ট সমান, গোল ব্যবধানে এগিয়ে পিএসজি
এবারের লড়াই শুধু অতীতের হিসাব মেলানোর নয়, চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করারও। দুই ম্যাচ শেষে বার্সেলোনা ও পিএসজি—দুই দলেরই পয়েন্ট ৬ এবং গোল ব্যবধান সমান ৭। তবে বেশি গোল করার সুবাদে তালিকার শীর্ষে রয়েছে পিএসজি।
প্রথম দুই ম্যাচে স্লোভান ব্রাতিস্লাভাকে ৬-১ এবং ম্যানচেস্টার সিটিকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে পিএসজি। অন্যদিকে বার্সেলোনা ফেইনুর্ডকে ৫-১ এবং গালাতাসারাইকে ৪-১ গোলে হারিয়ে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট পেয়েছে।
দুই দলই দুর্দান্ত ছন্দে থাকায় মুখোমুখি লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে ওঠার প্রত্যাশা রয়েছে।
চোটের ধাক্কায় বার্সেলোনা, সমস্যায় পিএসজিও
ম্যাচের আগে চোটের কারণে সমস্যায় পড়েছে বার্সেলোনা। রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ম্যাচে চোট পেয়েছেন জুলস কুন্দে ও এরিক গার্সিয়া। আগে থেকেই চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকা আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন ও রুনি বারদজির সঙ্গে তাঁরাও অনুপস্থিতির তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।
পিএসজিও পুরো শক্তির দল পাচ্ছে না। চোটের কারণে ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের হয়ে খেলতে পারবেন না নুনো মেন্দেস ও তরুণ গোলরক্ষক আলেসান্দ্রো লঙ্গোনি।
অতীতের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের স্মৃতি, সাম্প্রতিক দ্বৈরথে পিএসজির আধিপত্য এবং দুই দলেরই জয়ের ছন্দ—সব মিলিয়ে ম্যাচটি ঘিরে আগ্রহ তুঙ্গে। বার্সেলোনা কি আবারও পুরোনো গৌরবের ঝলক দেখাতে পারবে, নাকি পিএসজি নিজেদের সাম্প্রতিক আধিপত্য ধরে রাখবে? উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে।














