Image

এই ভিনিসিয়ুস কি সত্যিই আগের সেই ভিনি?

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 2 ঘন্টা আগেআপডেট: 25 মিনিট আগে
এই ভিনিসিয়ুস কি সত্যিই আগের সেই ভিনি?

এই ভিনিসিয়ুস কি সত্যিই আগের সেই ভিনি?

এই ভিনিসিয়ুস কি সত্যিই আগের সেই ভিনি?

পৃথিবীতে কত ধরনের ‘ষড়যন্ত্র–তত্ত্ব’ই না চালু আছে! কেনেডি হত্যাকাণ্ড থেকে ভিনগ্রহবাসী, ইলুমিনাতি কিংবা গ্রিফন শকুন—তালিকা বেশ লম্বা। গত জুলাইয়ে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ব্রাজিলেও ছড়িয়ে পড়েছিল এমনই এক অবিশ্বাস্য তত্ত্ব—রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আসল, নাকি ‘নকল’!

বিশ্বকাপের পর মুখে কসমেটিক সার্জারি করিয়েছিলেন ভিনি। বদলে গিয়েছিল তাঁর মুখের গড়নও কিছুটা। আর সেটাকেই কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে অদ্ভুত এক ষড়যন্ত্র–তত্ত্ব। দাবি করা হয়, ভিনিসিয়ুস নাকি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁর বিজ্ঞাপনী চুক্তিগুলো ঠিক রাখতে অবিকল তাঁর মতো দেখতে অন্য একজনকে মাঠে নামানো হচ্ছে!

স্বাভাবিকভাবেই সেই তত্ত্বের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। কিন্তু চলতি মৌসুমে মাঠে ভিনিসিয়ুসের পারফরম্যান্স দেখে সেই পুরোনো রসিকতাই যেন নতুন করে ফিরে আসতে পারে। কারণ পরিসংখ্যান বলছে, রিয়াল মাদ্রিদে গত আট মৌসুম ধরে যে ভিনিসিয়ুসকে দেখা গেছে, চলতি মৌসুমের ভিনির সঙ্গে তাঁর পারফরম্যান্সে বড় পার্থক্য।

গোল-অ্যাসিস্টে বড় পতন

২০২৬–২৭ মৌসুমে এখন পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ১০ ম্যাচ খেলেছেন ভিনিসিয়ুস। গোল করেছেন মাত্র একটি। এর মধ্যে লা লিগায় আট ম্যাচে তাঁর গোল একটি, অ্যাসিস্ট তিনটি। চ্যাম্পিয়নস লিগে দুই ম্যাচ খেলেও এখনো গোল বা অ্যাসিস্টের দেখা পাননি।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর হিসাবে, ২০১৮ সালে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর কোনো মৌসুমেই এত বাজে শুরু করেননি ব্রাজিলিয়ান তারকা।

গত মৌসুমে রিয়ালের হয়ে প্রতি ম্যাচে গড়ে ০.৬ গোল অবদানে ছিলেন ভিনি। ২২ গোলের পাশাপাশি করেছিলেন ১০ অ্যাসিস্ট। এবার সেই হার নেমে এসেছে ০.৪-এ।

কমেছে ড্রিবলিংয়ের ধারও

ভিনিসিয়ুসের সবচেয়ে বড় অস্ত্রগুলোর একটি তাঁর ড্রিবলিং। কিন্তু সেখানেও চলতি মৌসুমে দেখা যাচ্ছে বড় পতন।

২০২৩–২৪ মৌসুমে প্রতি ৯০ মিনিটে গড়ে ৭.৩৭টি ড্রিবলিংয়ের চেষ্টা করে সফল হয়েছিলেন ৩.১৫টি। ২০২৪–২৫ মৌসুমে ৬.৭০টি ড্রিবলিংয়ের মধ্যে সফলতা ছিল ২.৮২টি। গত মৌসুমে প্রতি ৯০ মিনিটে গড়ে ৫.৫১টি ড্রিবলিংয়ে সফল হয়েছেন ২.৫৩টিতে।

চলতি মৌসুমে সেই সংখ্যা আরও কমে প্রতি ৯০ মিনিটে ৪.৩৪টি ড্রিবলিংয়ের মধ্যে সফল ১.৮৬টি।

এমনকি রিয়ালে নিজের প্রথম মৌসুম কাটানো ইয়ান দিওমান্দেও এখন এই জায়গায় ভিনিকে ছাড়িয়ে গেছেন। ২৩টি ড্রিবলিংয়ের মধ্যে দিওমান্দের সফলতার হার ৬৫.৭ শতাংশ। ভিনির ক্ষেত্রে ১৪টি ড্রিবলিংয়ে সফলতার হার মাত্র ৪৬.৫ শতাংশ।

গোলের সুযোগ পেয়েও ব্যর্থতা

গোল করার ক্ষেত্রে শট নেওয়া এবং সুযোগ কাজে লাগানো গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু চলতি মৌসুমে সেখানেও ভিনির পরিসংখ্যান হতাশাজনক।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ২৫টি শট নিয়েছেন তিনি। গোল মাত্র একটি। অথচ তাঁর নেওয়া শট থেকে প্রত্যাশিত গোল বা এক্সজি (xG) ৩.১৪। অর্থাৎ, সুযোগের মান বিবেচনায় তাঁর অন্তত আরও বেশি গোল পাওয়ার কথা ছিল।

২৫ শটে এক গোল মানে গোল করার হার মাত্র ৪ শতাংশের কাছাকাছি। ২০টির বেশি শট নেওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে এটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন হার।

মরিনিওর আস্থাতেও কি টান পড়ছে?

চলতি মৌসুমে ভিনির ওপর রিয়াল কোচ জোসে মরিনিওর আস্থা এখনো রয়েছে। তবে দলে বিকল্প তৈরি হওয়ায় ব্রাজিলিয়ান তারকার ওপর চাপ বাড়ছে।

চ্যাম্পিয়নস লিগে রোমার বিপক্ষে রিয়ালের ৪–৩ গোলের জয়ের ম্যাচে ৫৯ মিনিটেই ভিনিকে তুলে নেন মরিনিও। সেই ম্যাচে গোল, অ্যাসিস্ট বা পোস্টে শট—কোনোটিই ছিল না তাঁর। এমনকি প্রতিপক্ষের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগও তৈরি করতে পারেননি। তাঁর ড্রিবলিংয়ের চেষ্টাগুলোও সফল হয়নি।

ম্যাচ শেষে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে ভিনি বলেন, সেরা ফর্মে না থাকায় তিনি নিজেই নিজের ওপর বিরক্ত।

অন্যদিকে, ওই ম্যাচে ভিনির জায়গায় নামা এনদ্রিক গোল ও অ্যাসিস্ট—দুটিই করে মরিনিওর আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। ম্যাচের আগেই এনদ্রিকের ওপর আস্থা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রিয়াল কোচ।

দিওমান্দের পারফরম্যান্সেও চাপ বাড়ছে

ভিনির জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছেন ইয়ান দিওমান্দে। আইভরি কোস্টের এই উইঙ্গার সর্বশেষ চার ম্যাচেই রিয়ালের হয়ে গোল অথবা অ্যাসিস্ট করেছেন। দুই উইংয়েই খেলতে পারেন তিনি।

ভিনি লা লিগায় চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় থাকায় সেভিয়ার বিপক্ষে তাঁর জায়গায় বাঁ উইংয়ে খেলেন দিওমান্দে। সুযোগ পেয়েই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন তিনি।

সামনে রিয়ালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ‘এল ক্লাসিকো’। নিষেধাজ্ঞার কারণে ওই ম্যাচেও ভিনিকে পাবে না রিয়াল। দিওমান্দে যদি ক্লাসিকোতেও ভালো খেলেন, তাহলে একাদশে জায়গা ধরে রাখতে ভিনির ওপর চাপ আরও বাড়বে।

আগের ভিনিকে কি ফিরিয়ে আনতে পারবেন ভিনি?

পরিসংখ্যান অন্তত বলছে, এই ভিনিসিয়ুস আগের সেই ভিনিসিয়ুস নন। কমেছে গোল, অ্যাসিস্ট, ড্রিবলিংয়ের সফলতা এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা।

তবে একটা জায়গায় আশার কারণ আছে—ভিনিসিয়ুসের সেরা ফর্মে ফেরার চাবিটা অন্য কারও হাতে নয়, তাঁর নিজের হাতেই।

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গত কয়েক মৌসুমে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর উইঙ্গারে পরিণত হওয়া ভিনি নিশ্চয়ই জানেন, কোথায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই—এই ‘নকল’ ভিনির গল্পকে পেছনে ফেলে কবে ফিরবেন সেই পুরোনো, দুরন্ত ভিনিসিয়ুস?

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three