Image

৬৩ বছরে কেন কোনো গোলকিপার ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি?

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 2 ঘন্টা আগেআপডেট: 3 মিনিট আগে
৬৩ বছরে কেন কোনো গোলকিপার ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি?

৬৩ বছরে কেন কোনো গোলকিপার ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি?

৬৩ বছরে কেন কোনো গোলকিপার ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি?

অলিভার কানকে মনে আছে?

স্মৃতির পাতা থেকে ২০০২ বিশ্বকাপের ফাইনালটা সবার আগে উঠে আসার কথা। জার্মানির গোলপোস্টের নিচে সেবার যেন এক দুর্ভেদ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন কান। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স জার্মানিকে ফাইনালে তুলেছিল। বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে গোল্ডেন বলও জিতেছিলেন তিনি।

কিন্তু ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে একটি ভুলই যেন বদলে দিল সবকিছু। রিভালদোর শট হাতে রাখতে পারেননি কান। ফিরতি বলে গোল করেন রোনালদো। পরে আরও একটি গোল করে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতান সেই রোনালদো। মুহূর্তের ভুলে তাই কানের পুরো টুর্নামেন্টের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স অনেকটাই আড়ালে চলে যায়।

অথচ ২০০২ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতা কান আজও সেই তালিকায় একমাত্র গোলকিপার। একই বছর ব্যালন ডি’অরে তৃতীয়ও হয়েছিলেন তিনি। ফাইনালের ফল অন্যরকম হলে হয়তো কানই হতে পারতেন ব্যালন ডি’অরজয়ী দ্বিতীয় গোলকিপার।

কিন্তু তা হয়নি।

১৯৬৩ সালে লেভ ইয়াশিনের ব্যালন ডি’অর জয়ের পর পেরিয়ে গেছে ৬৩ বছর। এরপর অনেক কিংবদন্তি গোলকিপার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ইতিহাস তৈরি করেছেন, ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে ওপরের দিকে থেকেছেন; কিন্তু পুরস্কারটি আর কোনো গোলকিপারের হাতে ওঠেনি।

ইয়াশিনের পর আর কেউ পারেননি

লেভ ইয়াশিন এখন পর্যন্ত ব্যালন ডি’অর জেতা একমাত্র গোলকিপার। ১৯৬৩ সালে তাঁর হাতে ওঠে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার।

এরপর কাছাকাছি গিয়েও থেমে যেতে হয়েছে অনেক কিংবদন্তিকে।

ইতালির কিংবদন্তি দিনো জফ ১৯৭৩ সালে ব্যালন ডি’অরে দ্বিতীয় হয়েছিলেন। জুভেন্টাসের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ইতালির পোস্টে ১ হাজার ৪২ মিনিট গোল হজম না করার রেকর্ডও গড়েছিলেন তিনি।

২০০৬ সালে ইতালির বিশ্বকাপ জয়ের পর ব্যালন ডি’অরে দ্বিতীয় হন জিয়ানলুইজি বুফন। ২০১৪ সালে জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ের পর একই অবস্থানে ছিলেন ম্যানুয়েল নয়্যার।

অর্থাৎ, গোলকিপাররা যে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে আসতে পারেন না, তা নয়। বরং তাঁরা অনেক সময় শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন হয়ে ওঠেন। কিন্তু শেষ ধাপটি পেরোতে পারেন না।

গোলকিপারের সমস্যা কোথায়?

এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে বুঝতে হয়, ফুটবলে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স কীভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং দর্শক কীভাবে একটি ম্যাচের নায়ককে মনে রাখেন।

ফুটবলে শেষ কথা গোল। বল জালে জড়ালেই গ্যালারি গর্জে ওঠে। ম্যাচের শেষ মিনিটে কোনো ফরোয়ার্ডের গোল পরদিনের সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়ে যায়।

কিন্তু সেই একই ম্যাচে ৫০ মিনিটে গোলকিপারের অবিশ্বাস্য সেভ? সেটি হয়তো ম্যাচ প্রতিবেদনের একটি অংশ মাত্র।

সমস্যাটা এখানেই।

একজন ফরোয়ার্ড ৮৯ মিনিট নিষ্ক্রিয় থাকার পর শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোল করে ম্যাচের নায়ক হয়ে যেতে পারেন। বিপরীতে একজন গোলকিপার ৮৯ মিনিট অসাধারণ পারফরম্যান্স করেও একটি ভুলের কারণে পুরো ম্যাচের আলো হারাতে পারেন।

কানের ২০০২ বিশ্বকাপ ফাইনাল তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

সব সেভের গল্প পরিসংখ্যানে ধরা পড়ে না

গোলকিপারের অবদান শুধু সেভে সীমাবদ্ধ নয়।

ধরুন, একজন গোলরক্ষক প্রতিপক্ষের থ্রু পাস আগেই বুঝতে পেরে বক্সের বাইরে ছুটে গেলেন এবং শট নেওয়ার আগেই বল বিপদমুক্ত করলেন। সেখানে কোনো সেভ নেই, হাইলাইটস নেই, এমনকি তাৎক্ষণিকভাবে চোখে পড়ার মতো পরিসংখ্যানও নেই।

কিন্তু সিদ্ধান্তটি হয়তো একটি দুর্দান্ত ওয়ান-অন-ওয়ান সেভের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।

আবার একটি দুর্দান্ত সেভ দলের অন্য খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিতে পারে। প্রতিপক্ষ একের পর এক সুযোগ পেয়েও গোল করতে না পারলে মানসিক চাপেও পড়তে পারে।

এই প্রভাবগুলো পরিমাপ করা কঠিন। কারণ গোলকিপারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজই পরোক্ষ।

xG-তেও পুরো গল্প ধরা পড়ে না

আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের অবদান বোঝার জন্য গোল ও অ্যাসিস্ট সবচেয়ে সহজ পরিসংখ্যান। প্রত্যাশিত গোল বা xG-এর মতো আধুনিক মেট্রিকও আক্রমণাত্মক সুযোগের মান বুঝতে সাহায্য করে।

গোলকিপারদের ক্ষেত্রে শট-পরবর্তী প্রত্যাশিত গোল বা post-shot xG দিয়ে অনুমান করা যায়, মুখোমুখি হওয়া শটের মান বিবেচনায় একজন গোলরক্ষক কতগুলো গোল আটকেছেন।

কিন্তু এখানেও সীমাবদ্ধতা আছে।

একজন গোলকিপার কীভাবে জায়গা নিয়েছেন, কখন পোস্ট ছেড়ে বের হয়েছেন, কখন থ্রু বল আগেই বুঝে গেছেন, কখন ডিফেন্ডারদের নির্দেশ দিয়ে বিপদ ঠেকিয়েছেন—এসবের সবটুকু কোনো একটি পরিসংখ্যানে ধরা যায় না।

ব্রায়ান ক্লফ বুঝেছিলেন গোলকিপারের গুরুত্ব

নটিংহাম ফরেস্টে পিটার শিলটনের গুরুত্ব কিংবদন্তি কোচ ব্রায়ান ক্লফ খুব ভালোভাবেই বুঝেছিলেন। তাঁর মতে, একজন ভালো গোলকিপার একটি মৌসুমে দলকে ১৫ থেকে ২০ পয়েন্ট এনে দিতে পারেন।

কেন?

কারণ একজন বিশ্বমানের গোলরক্ষক শুধু গোল ঠেকান না, দলের বাকিদেরও আত্মবিশ্বাস দেন। ডিফেন্ডাররা জানেন, তাঁদের পেছনে একজন নির্ভরযোগ্য শেষ প্রহরী আছেন। ফলে তাঁরা আরও আগ্রাসীভাবে খেলতে পারেন।

ফরোয়ার্ডদের কাছেও তখন একটি গোলের মূল্য আরও বেড়ে যায়। কারণ তাঁরা জানেন, পেছনে থাকা গোলকিপার হয়তো সেই এক গোলকেই যথেষ্ট করে তুলতে পারেন।

ইয়াশিন, কান, বুফন, নয়্যার—সবাই আলাদা উদাহরণ

প্রতিটি প্রজন্মের সেরা গোলকিপারই দেখিয়েছেন, একজন গোলরক্ষক একটি ম্যাচ বা টুর্নামেন্টের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন।

ইয়াশিন ছিলেন তাঁর সময়ের প্রতীক। দিনো জফ ছিলেন ধারাবাহিকতা ও রক্ষণাত্মক দক্ষতার প্রতিচ্ছবি। অলিভার কান দেখিয়েছেন বিশ্বকাপে একজন গোলকিপার কীভাবে পুরো দলের সবচেয়ে প্রভাবশালী খেলোয়াড় হয়ে উঠতে পারেন।

বুফনের শট ঠেকানোর দক্ষতা ছিল অসাধারণ। আর ম্যানুয়েল নয়্যার গোলকিপারের সংজ্ঞাকেই যেন আরও বিস্তৃত করেছিলেন। শুধু গোল ঠেকানো নয়, বক্সের বাইরে উঠে এসে সুইপার-গোলকিপারের ভূমিকাও পালন করেছেন তিনি।

তারপরও কেউ ইয়াশিনের পুনরাবৃত্তি করতে পারেননি।

‘ক্লিন শিট’ই কি যথেষ্ট?

গোলকিপারের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনায় ‘ক্লিন শিট’ সবচেয়ে পরিচিত পরিসংখ্যানগুলোর একটি। কিন্তু একটি গোলকিপারের শ্রেষ্ঠত্ব বোঝার জন্য শুধু গোলশূন্য ম্যাচের সংখ্যা যথেষ্ট নয়।

কতগুলো গোল প্রতিহত করেছেন, কোন জায়গা কতটা নিয়ন্ত্রণ করেছেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর ছিলেন, পাসিংয়ে কী অবদান

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three