যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের PERM কর্মসূচি থেকে ভারতীয় আইটি জায়ান্টরা স্থগিত
- 1
‘আমরা নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিলাম’, বিশ্বকাপ ফাইনালে হার নিয়ে মুখ খুললেন মেসি
- 2
এক রকেটে ১৫ স্যাটেলাইট, মহাকাশে নতুন রেকর্ড গড়ল দক্ষিণ কোরিয়া
- 3
ডোসায় মৃত ইঁদুরের অভিযোগ, এরপরই ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ—মুম্বাইয়ে চাঞ্চল্য
- 4
১২ দলের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০২৯ থেকে নতুন যুগের পথে টেস্ট ক্রিকেট
- 5
অবসরের পর কোচ নয়, ক্লাবের মালিক হতে পারেন মেসি

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের PERM কর্মসূচি থেকে ভারতীয় আইটি জায়ান্টরা স্থগিত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের PERM কর্মসূচি থেকে ভারতীয় আইটি জায়ান্টরা স্থগিত
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিভিত্তিক গ্রিন কার্ডের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ Permanent Labor Certification (PERM) কর্মসূচি থেকে ভারতের শীর্ষ কয়েকটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে স্থগিত করেছে দেশটির শ্রম বিভাগ। নতুন আবেদনের পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের আগে জমা দেওয়া এবং এখনো প্রক্রিয়াধীন আবেদনও আপাতত এগোবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমমন্ত্রী কিথ সন্ডারলিং ৮ অক্টোবর এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তার পাশে ছিলেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। স্থগিত তালিকায় রয়েছে কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা, উইপ্রো, এইচসিএল ও ক্যাপজেমিনি। একই পদক্ষেপের আওতায় পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবিও।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
সন্ডারলিংয়ের দাবি, ২০০৯ সাল থেকে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য প্রায় ৩০ লাখ আবেদন করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি H-1B ভিসা অনুমোদন এবং এক লাখের বেশি স্থায়ী শ্রম সনদের অনুমোদন হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে কিছু প্রতিষ্ঠান স্থানীয় কর্মীদের চাকরির সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে। PERM ব্যবস্থার অপব্যবহার ও সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই আপাতত নতুন ও চলমান আবেদন আটকে দেওয়া হয়েছে।
জেডি ভ্যান্সও অভিযোগ করেছেন, দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের ভিসা কর্মসূচি ব্যবহার করে মার্কিন কর্মীদের বেতন কমানোর সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে মাইক্রোসফটকে লক্ষ্য করে তিনি প্রতিষ্ঠানটির H-1B ব্যবস্থার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ভ্যান্সের দাবি, ২০২৫ সালে মাইক্রোসফট প্রায় ৬ হাজার মার্কিন কর্মী ছাঁটাই করলেও একই সময়ে ৬ হাজারের বেশি H-1B ভিসার অনুমোদন পেয়েছিল। তবে মাইক্রোসফট জানিয়েছে, তাদের H-1B আবেদনের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল বিদ্যমান কর্মীদের ভিসা বাড়ানো বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের জন্য।
ভারতীয় আইটি কর্মীদের ওপর কী প্রভাব পড়বে?
PERM হলো যুক্তরাষ্ট্রে কোনো নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট বিদেশি কর্মীর জন্য স্থায়ী চাকরির ভিত্তিতে গ্রিন কার্ড স্পনসর করার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ায় থাকা বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে বিলম্ব তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে H-1B ভিসায় থাকা ভারতীয় প্রযুক্তি পেশাজীবীদের ওপর এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের H-1B ভিসা সরাসরি বাতিল হয়ে যাচ্ছে। মূলত PERM আবেদন গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করা হয়েছে।
ন্যাসকমের প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের সংগঠন ন্যাসকম। সংগঠনটির দাবি, ভারতীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো গত কয়েক বছরে H-1B ভিসার ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় কর্মী নিয়োগও বাড়িয়েছে।
ন্যাসকম বলেছে, অভিবাসন এবং দক্ষ কর্মীদের এক দেশ থেকে অন্য দেশে সাময়িকভাবে কাজের সুযোগ দেওয়া—এই দুটি বিষয়কে আলাদাভাবে দেখা প্রয়োজন। সংগঠনটির মতে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণে H-1B কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এটি প্রয়োজন হতে পারে।
TCS-ও জানিয়েছে, PERM স্থগিতাদেশ তাদের কর্মী নিয়োগ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, গত দুই বছরে তাদের PERM আবেদন ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কর্মী নিয়োগের কৌশল মূলত স্থানীয় নিয়োগের ওপর নির্ভরশীল।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে নতুন কড়াকড়ি
মার্কিন কর্মীদের চাকরি সুরক্ষার কথা তুলে ধরে ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ ও অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। H-1B ভিসা ব্যবস্থাও এর মধ্যে রয়েছে।
ভারতীয় প্রযুক্তি পেশাজীবীরা H-1B ব্যবস্থার বড় একটি অংশ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতিগত পরিবর্তন ভারতীয় আইটি খাতের ওপর বিশেষ নজর তৈরি করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো বলছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় কর্মী নিয়োগ বাড়াচ্ছে এবং বৈশ্বিক দক্ষ কর্মী ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি মার্কিন কর্মসংস্থানেও অবদান রাখছে।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন PERM স্থগিতাদেশ শুধু কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড আবেদনেই প্রভাব ফেলবে না; এর মাধ্যমে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ, H-1B ভিসা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে অভিবাসন নীতি নিয়ে বিতর্কও আরও তীব্র হতে পারে।















