আবু ধাবির গরমে শান্তদের আফগান পরীক্ষা, নতুন অভিজ্ঞতার সামনে বাংলাদেশ
- 1
‘আমরা নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিলাম’, বিশ্বকাপ ফাইনালে হার নিয়ে মুখ খুললেন মেসি
- 2
এক রকেটে ১৫ স্যাটেলাইট, মহাকাশে নতুন রেকর্ড গড়ল দক্ষিণ কোরিয়া
- 3
ডোসায় মৃত ইঁদুরের অভিযোগ, এরপরই ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ—মুম্বাইয়ে চাঞ্চল্য
- 4
১২ দলের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০২৯ থেকে নতুন যুগের পথে টেস্ট ক্রিকেট
- 5
অবসরের পর কোচ নয়, ক্লাবের মালিক হতে পারেন মেসি

আবু ধাবির গরমে শান্তদের আফগান পরীক্ষা, নতুন অভিজ্ঞতার সামনে বাংলাদেশ
আবু ধাবির গরমে শান্তদের আফগান পরীক্ষা, নতুন অভিজ্ঞতার সামনে বাংলাদেশ
আবু ধাবির তীব্র গরমের মধ্যে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সাদা পোশাকে লড়াইয়ে নামছে বাংলাদেশ। এশিয়ান গেমসে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর এবার টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের ফিরে পাওয়ার সুযোগ শান্তদের সামনে।
শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় আবু ধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান টেস্ট। ম্যাচটি আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (এসিবি) আয়োজনে হলেও নিজেদের দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের পরিস্থিতি না থাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতেই ম্যাচটি আয়োজন করছে আফগানিস্তান।
বাংলাদেশের জন্যও ম্যাচটি বিশেষ। ১৬১টি টেস্ট খেলার পর এবারই প্রথম কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
৪০ ডিগ্রি গরমও অজুহাত নয়
আমিরাতের গরম নিয়ে অনুশীলনের ফাঁকে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কথাবার্তায় একাধিকবার উঠে এসেছে তাপমাত্রার প্রসঙ্গ। মুশফিকুর রহিম তো মজার ছলে বলেছেন, ‘অনেক ঠাণ্ডা ভাই, কম্বল লাগবে। বেশি না, মাত্র ৪০ ডিগ্রি।’
আবু ধাবিতেও একই রকম গরম। তবে এই আবহাওয়াকে অজুহাত হিসেবে দেখছেন না অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
শান্ত বলেন, প্রস্তুতি ভালো হয়েছে এবং কন্ডিশন কিছুটা গরম হলেও পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে সেটিকে অজুহাত হিসেবে দেখতে চান না তারা। দলের ক্রিকেটাররাও বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নন।
উইকেট নিয়েও আশাবাদী বাংলাদেশ অধিনায়ক। তাঁর মতে, পিচ কিছুটা মন্থর হতে পারে, তবে ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা
বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে অবশ্য কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি করার পর আর বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তানজিদ হাসান তামিম। ওই সিরিজের তিন ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হন লিটন কুমার দাস।
অভিজ্ঞ মুমিনুল হকের ব্যাটেও সাম্প্রতিক সময়ে বড় রান নেই। ফলে আফগানিস্তানের স্পিন আক্রমণের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটারদের সামনে বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।
বিশেষ করে রিস্ট স্পিনে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে আফগানিস্তান। স্কোয়াডে কাইস আহমেদের পাশাপাশি রয়েছেন আরেক লেগ স্পিনার খালিল গুরবাজ। তবে আফগানদের সবচেয়ে বড় তারকা রশিদ খানের অনুপস্থিতি কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে বাংলাদেশকে।
মুখোমুখি লড়াইয়ে দুই রকম স্মৃতি
টেস্ট ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত দুবার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। ২০১৯ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২২৪ রানে হেরে বড় ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ।
তবে ২০২৩ সালে ঘরের মাঠে ফিরতি লড়াইয়ে সেই হতাশার জবাব দেয় বাংলাদেশ। আফগানিস্তানকে ৫৪৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় তুলে নেয় তারা।
আগের দুই টেস্টই হয়েছিল বাংলাদেশের মাটিতে। এবার লড়াই হবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে—যে কন্ডিশন আফগানিস্তানের কাছে তুলনামূলক বেশি পরিচিত।
আফগানিস্তান এখন পর্যন্ত ১৩টি টেস্ট খেলেছে, যার তিনটি হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। রঙিন পোশাকেও আমিরাতের মাঠে নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের।
তবে টেস্ট অভিজ্ঞতায় এগিয়ে বাংলাদেশই। ২০২৩ সালের পর সাতটি টেস্ট খেলে আফগানিস্তান জিতেছে মাত্র একটি, ড্র করেছে একটি। বিপরীতে নিজেদের সবশেষ সাত টেস্টের পাঁচটিতেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করা এবং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ডারউইন টেস্টে ঐতিহাসিক জয়ও রয়েছে।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আগে প্রস্তুতির মঞ্চ
আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই ম্যাচটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়। তবে এরপরই বাংলাদেশের সামনে রয়েছে চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সিরিজ—ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড এবং দেশের বাইরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।
বর্তমানে তিন সিরিজের ছয় ম্যাচে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট শতাংশ ৫৫.৫৬। টেবিলে তাদের অবস্থান চতুর্থ।
বাকি ছয় টেস্টের চারটিতে জয় এবং অন্তত একটি ম্যাচে ড্র করতে পারলে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে বাংলাদেশের। পথটি কঠিন, তবে অসম্ভব নয়। সেই কঠিন অভিযানের আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টটি তাই নিজেদের প্রস্তুতি ও সামর্থ্য যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
পেস-স্পিনে ভারসাম্যের ভাবনা
সামনের গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলোর কথা মাথায় রেখে এই ম্যাচে বিশ্রামে রাখা হয়েছে অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদকে। চোটের পুনর্বাসনে থাকায় দলে নেই নাহিদ রানাও।
তবে হাসান মাহমুদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও ইবাদত হোসেন চৌধুরীকে নিয়ে গড়া পেস আক্রমণ বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে।
অন্যদিকে আবু ধাবির উইকেট ঐতিহাসিকভাবেই স্পিনারদের সহায়তা করে। তাই মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের পাশাপাশি রিজার্ভ হিসেবে দলের সঙ্গে থাকা নাঈম হাসানকেও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। একাদশে জায়গা পেয়ে যেতে পারেন ২৬ বছর বয়সী এই অফ স্পিনার।
এশিয়ান গেমসের হতাশা পেছনে ফেলে টেস্ট ক্রিকেটে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আবু ধাবির ৪০ ডিগ্রি গরম, মন্থর উইকেট আর আফগানিস্তানের পরিচিত কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ—সবকিছু পেরিয়ে শান্তরা কতটা নিজেদের মেলে ধরতে পারেন, সেটিই এখন দেখার।
বাংলাদেশের জন্য এটি শুধু আরেকটি টেস্ট নয়; নিরপেক্ষ ভেন্যুতে প্রথম টেস্ট খেলার পাশাপাশি সামনে থাকা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কঠিন লড়াইয়ের আগে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাইয়েরও বড় সুযোগ।














