Image

২০ বছরের ক্যারিয়ারে প্রথমবার লজ্জিত মদ্রিচ, ইংল্যান্ডের কাছে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত ক্রোয়েশিয়া

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 2 ঘন্টা আগেআপডেট: 19 মিনিট আগে
২০ বছরের ক্যারিয়ারে প্রথমবার লজ্জিত মদ্রিচ, ইংল্যান্ডের কাছে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত ক্রোয়েশিয়া

২০ বছরের ক্যারিয়ারে প্রথমবার লজ্জিত মদ্রিচ, ইংল্যান্ডের কাছে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত ক্রোয়েশিয়া

২০ বছরের ক্যারিয়ারে প্রথমবার লজ্জিত মদ্রিচ, ইংল্যান্ডের কাছে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত ক্রোয়েশিয়া

ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়গুলোর অন্যতম নায়ক লুকা মদ্রিচ। ২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনাল থেকে ২০২২ বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান—দেশটির সাফল্যের দীর্ঘ পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এই কিংবদন্তি মিডফিল্ডার। কিন্তু জাতীয় দলের জার্সিতে এবার এমন এক রাত দেখলেন, যা তার ২০ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আগে কখনো আসেনি।

নেশন্স লিগে নিজেদের মাঠে ইংল্যান্ডের কাছে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচ শেষে মদ্রিচ জানালেন, এমন পরাজয়ের পর ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো তিনি লজ্জিত বোধ করছেন।

“২০ বছর ধরে জাতীয় দলের সঙ্গে আছি। এই প্রথমবার কোনো ম্যাচের পর আমি লজ্জিত বোধ করছি। ম্যাচ আমরা হারতেই পারি, অথবা আরও ভালো কোনো প্রতিপক্ষের কাছে হারতে পারি। ইংল্যান্ড এখন সত্যিই ভালো দল। কিন্তু যেভাবেই দেখুন না কেন, এভাবে হেরে যাওয়া এবং বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা সুনাম নষ্ট করা অগ্রহণযোগ্য,” বলেন মদ্রিচ।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ৭-০ হার আরও হতাশাজনক হয়েছে আগের ম্যাচের ফলের কারণে। তার আগেই স্পেনের কাছে ৪-১ গোলে হেরেছিল ক্রোয়েশিয়া। ফলে টানা দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারায় দলের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন আরও বেড়েছে।

কোচ স্লাভেন বিলিচও ম্যাচ শেষে হতাশা লুকাতে পারেননি। তার মতে, এই পরাজয়ের জন্য কোনো একটি কারণকে দায়ী করা ঠিক হবে না। বরং পুরো দলই যেন একসঙ্গে ছন্দ হারিয়ে ফেলেছিল।

“এরকম একটা ম্যাচের পর কোনো যুক্তিসঙ্গত বা ইতিবাচক কথা বলা কঠিন। আমরা হতাশ, আমি হতাশ এবং আমরা সবাই দুঃখিত। মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের জন্য, সমর্থকদের জন্য, আমাদের জন্য এবং ফুটবলারদের জন্যও আমার খারাপ লাগছে,” বলেন বিলিচ।

তিনি আরও বলেন, “এটা ছিল স্রেফ একটি সম্মিলিত ব্ল্যাকআউট। নির্দিষ্ট কোনো একটি কারণ দেখিয়ে এই পারফরম্যান্সকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। এই গ্রীষ্মে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কিছু সমস্যা ছিল, অবশ্যই ছিল। সেসবের দায়ভার আমার। কিন্তু সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পর শুধু একটি কারণে এমন হয়েছে—বিষয়টি তেমন নয়।”

ক্রোয়েশিয়ার সোনালি প্রজন্মের অনেকেই এখন আর জাতীয় দলে নেই। সাম্প্রতিক সময়েও দলটি আগের সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। এবারের বিশ্বকাপেও শেষ বত্রিশ থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাত গোল হজম করা নিঃসন্দেহে আলাদা মাত্রার ধাক্কা।

৪১ বছর বয়সী মদ্রিচ এই ম্যাচে শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন। তবে দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় ১০ মিনিট পর তাকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর ডাগআউট থেকেই দেখতে হয়েছে দলের একের পর এক গোল হজম করা।

ম্যাচ শেষে সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলেছেন মদ্রিচ। হতাশা সত্ত্বেও তিনি দলকে এই রাত থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

“আমি এইমাত্র ফুটবলারদের সঙ্গে কথা বললাম। বিশ্বাস করুন, আমাদের চেয়ে বেশি কষ্ট আর কেউ পাচ্ছে না। যা হওয়ার হয়ে গেছে; এখন এটা মেনে নিতেই হবে।”

তবে সাত গোলের এই হার যে মদ্রিচের কাছে শুধু একটি ম্যাচের পরাজয় নয়, বরং দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এক বিরল তিক্ত অভিজ্ঞতা—তার কথাতেই সেটি স্পষ্ট।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three