শ্রেয়াসের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে উইন্ডিজকে উড়িয়ে সিরিজে এগিয়ে ভারত
- 1
বাংলাদেশ ভ্রমণ ম্যাপ, আমার বাংলাদেশ। যেভাবে বানাবেন ভ্রমণ ম্যাপের ছবি
- 2
মেসির শেষ ম্যাচে যে কারণে থাকতে পারছেন না দিবালা ও মলিনা
- 3
বেনিনের ‘সবাই’ মেসির বিদায়ী জার্সি পেতে চায়
- 4
‘আমার ছেলে যা হতে চায়, তা-ই হবে’: মায়ের সেই সাহসে ডায়াবেটিসকে হারিয়ে নিউইয়র্ক জয় জভেরেভের
- 5
টিভিতে আজকের খেলা, সোমবার ৫ অক্টোবর ২০২৬

শ্রেয়াসের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে উইন্ডিজকে উড়িয়ে সিরিজে এগিয়ে ভারত
শ্রেয়াসের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে উইন্ডিজকে উড়িয়ে সিরিজে এগিয়ে ভারত
অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। লখনৌতে প্রথম ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের দেওয়া ১৭২ রানের লক্ষ্য মাত্র ১৪.৪ ওভারেই ২ উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
ব্যাট হাতে একাই ম্যাচের রং বদলে দেন শ্রেয়াস। মাত্র ৪৩ বলে ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ৬টি ছক্কা। ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিতে ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে তাঁর হাতে।
৪২ বলে সেঞ্চুরি, শ্রেয়াসের রেকর্ড
শুরুতে কিছুটা সময় নিয়ে ব্যাটিং করলেও এরপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন শ্রেয়াস। ২৮ বলে পঞ্চাশ পূর্ণ করার পর মাত্র ১৪ বলেই সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান ভারতীয় অধিনায়ক।
ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরি করা তৃতীয় অধিনায়ক শ্রেয়াস। তবে রান তাড়ায় সেঞ্চুরি করা ভারতীয় অধিনায়কদের মধ্যে তিনিই প্রথম।
এর আগে রান তাড়ায় ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল বিরাট কোহলির অপরাজিত ৯৪ রান, ২০১৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই।
পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর অধিনায়কদের মধ্যে ৪২ বলে সেঞ্চুরি করে দ্রুততম সেঞ্চুরির তালিকায় শ্রেয়াসের ওপরে আছেন শুধু রোহিত শর্মা ও সিকান্দার রাজা। রোহিত ৩৫ বলে এবং রাজা ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন।
কিষানের সঙ্গে দুর্দান্ত জুটি
শ্রেয়াসের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ইশান কিষানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান খেলেন ২৭ বলে ৩৭ রানের ধীরস্থির ইনিংস।
শ্রেয়াস ও কিষান মিলে তৃতীয় উইকেটে মাত্র ৬৮ বলে অবিচ্ছিন্ন ১৩৭ রানের জুটি গড়ে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন।
ভারতের জয়ের জন্য শেষদিকে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৭ রান। আর শ্রেয়াসের সেঞ্চুরি থেকে দূরে ছিলেন ৫ রান। রস্টন চেইসের বলে লং-অনের ওপর দিয়ে বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে একসঙ্গে দুই লক্ষ্যই পূরণ করেন ভারতীয় অধিনায়ক। পরের বলেই আসে ম্যাচের সমাপ্তি।
স্পিনে চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম চার ওভারে বিনা উইকেটে ৩৬ রান তোলে তারা। কিন্তু এরপর দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা।
অভিষিক্ত কামিল পুরানকে ১২ রানে ফেরান আর্শদিপ সিং। এরপর পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে রভম্যান পাওয়েলকে কোনো রান না দিয়েই ফিরিয়ে দেন অক্ষর প্যাটেল। একই ওভারে রানআউট হন শিমরন হেটমায়ার।
৩৮ রানে বিনা উইকেট থেকে মাত্র ৪৪ রানেই ৩ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
হোপ-রাদারফোর্ডের লড়াই
চতুর্থ উইকেটে শেই হোপ ও শেরফেন রাদারফোর্ড ৬৩ রানের জুটি গড়ে দলকে সাময়িকভাবে ঘুরে দাঁড় করান।
ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে অপরাজিত ১৬২ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলা হোপ এবার টি-টোয়েন্টিতে ৩৭ বলে করেন ৫২ রান। অন্যদিকে পাঁচ নম্বরে নেমে রাদারফোর্ড ৩৪ বলে করেন ৫৬ রান।
তবে হোপের বিদায়ের পর আবারও ব্যাটিং ধসে পড়ে ক্যারিবিয়ানরা। একসময় ৩ উইকেটে ১০৭ রান থেকে তাদের স্কোর হয়ে যায় ৮ উইকেটে ১৩৫ রান।
শেষদিকে রাদারফোর্ড ও আকিল হোসেনের ৩৬ রানের জুটিতে কোনোভাবে ১৭১ রানে পৌঁছায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রাদারফোর্ডের ৫৬ রানের পাশাপাশি আকিল করেন ১৫ রান।
অভিষেকেই নামান ধীরের ৩ উইকেট
ভারতের স্পিনাররা এদিন দারুণ কার্যকর ছিলেন। তিন স্পিনার মিলে তুলে নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৭ উইকেট।
অভিষেক হওয়া অফ স্পিনার নামান ধীর ছিলেন ভারতের সবচেয়ে সফল বোলার। ৪ ওভারে ৩১ রান দিয়ে তিনি নেন ৩ উইকেট। অক্ষর প্যাটেল ও কুলদীপ যাদব নেন দুটি করে উইকেট।
শেষ পর্যন্ত ১৯.১ ওভারে ১৭১ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে মাত্র ১৪.৪ ওভারে ১৭২/২ করে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৯.১ ওভারে ১৭১ অলআউট
শেই হোপ ৫২, শেরফেন রাদারফোর্ড ৫৬; নামান ধীর ৩/৩১, অক্ষর প্যাটেল ২/২৬, কুলদীপ যাদব ২/৩৩।
ভারত: ১৪.৪ ওভারে ১৭২/২
শ্রেয়াস আইয়ার ১০২*, ইশান কিষান ৩৭*।
ফল: ভারত ৮ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ৫ ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ভারত
ম্যাচসেরা: শ্রেয়াস আইয়ার
দুই দলের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি আগামী শুক্রবার রাঁচিতে অনুষ্ঠিত হবে।















