টাকা বেশি, গতি কম—পেসারদের নিয়ে ব্রেট লির দুশ্চিন্তা
- 1
পাকিস্তানি ‘শেইদাই’ নকলের অভিযোগ নিলয়-হিমির নাটকের বিরুদ্ধে
- 2
দ্রাবিড়পুত্র অন্বয়ের ১৫১, শেবাগপুত্র আর্যবীরের ১৭৩—যুব ক্রিকেটে তারকাদের উত্তরসূরিদের দাপট
- 3
ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে ফিফায় অসন্তোষ, বিকল্প সভাপতি প্রার্থী খুঁজছেন ইউরোপীয় কর্মকর্তারা
- 4
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ইতিহাস: UCL জয়, সাফল্য ও সব ট্রফির তালিকা
- 5
হলুদ-লাল কার্ডের বদলে ডিজিটাল স্ক্রিন! ফুটবলে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা

টাকা বেশি, গতি কম—পেসারদের নিয়ে ব্রেট লির দুশ্চিন্তা
টাকা বেশি, গতি কম—পেসারদের নিয়ে ব্রেট লির দুশ্চিন্তা
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বড় অর্থ আর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের চিন্তায় পেসাররা কি গতির সঙ্গে আপস করছেন? প্রশ্ন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান তারকার
ব্যাটসম্যানের কানের পাশ দিয়ে শিসের মতো শব্দ তুলে বল ছুটে যাবে, গতির ঝড়ে কেঁপে উঠবে ব্যাট—ফাস্ট বোলিংয়ের রোমাঞ্চটা যেন সেখানেই। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে বল করতে পারেন, এমন পেসারদের তাই সবসময়ই আলাদা কদর। কিন্তু আধুনিক ক্রিকেটে সেই গতির ঝড় কি ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছে?
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ফাস্ট বোলার ব্রেট লির আশঙ্কা, পরিস্থিতি সেদিকেই যাচ্ছে। তাঁর মতে, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বিপুল অর্থ এবং দীর্ঘ ক্যারিয়ারের হিসাব কষতে গিয়ে পেসাররা হয়তো নিজেদের গতির লাগাম টেনে ধরছেন।
উইজডেনের ‘স্কুপ এক্সটেন্ডেড’ অনুষ্ঠানে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন লি। তাঁর মতে, বর্তমানে নিয়মিত ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে বল করতে পারেন—এমন বোলারের সংখ্যা খুবই কম।
তরুণ পেসারদের আরও আক্রমণাত্মক হতে এবং ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতির সীমাকে চ্যালেঞ্জ করতে দেখতে চান তিনি।
লি বলেন, ‘আমি চাই বোলাররা ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতির সীমাকে চ্যালেঞ্জ করুক। কিন্তু এখন তেমনটা দেখছি না। তরুণ ফাস্ট বোলারদের দৌড়ে এসে প্রচণ্ড গতিতে আগুনে সব বল করতে দেখতে চাই আমি।’
১৬০ কিলোমিটারের ক্লাবে লি-শোয়েব
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্রুততম বোলিংয়ের অন্যতম নজির গড়েছেন ব্রেট লি। ২০০৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘণ্টায় ১৬০.৮ কিলোমিটার গতিতে বল করেছিলেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে লির চেয়ে বেশি গতির বল করার রেকর্ড রয়েছে শুধু পাকিস্তানের শোয়েব আখতারের। ২০০৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘণ্টায় ১৬১.৩ কিলোমিটার গতিতে বল করেছিলেন শোয়েব।
এরপর খুব কম বোলারই ১৬০ কিলোমিটারের সীমা ছুঁতে পেরেছেন। এমনকি আধুনিক ক্রিকেটে নিয়মিত ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করতে পারেন—এমন পেসারও হাতে গোনা।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারের জন্য কি গতি কমাচ্ছেন পেসাররা?
বর্তমান ক্রিকেটে একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সুযোগ পেসারদের জন্য বড় আর্থিক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। লির প্রশ্ন, এই সুযোগ ধরে রাখতে গিয়ে বোলাররা কি নিজেদের গতির ওপর নিয়ন্ত্রণ আনছেন?
তিনি বলেন, ‘বোলাররা কি এখন দীর্ঘ মেয়াদে খেলার কথা ভাবছেন, ক্যারিয়ার কত দিন টিকবে, সেটা নিয়ে চিন্তা করছেন? তাঁরা কি ভাবছেন, বিশ্বের সাত-আটটি আলাদা ফ্র্যাঞ্চাইজিতে খেলার সুযোগ পাবেন, সেখান থেকে মোটা অঙ্কের অর্থও আয় করবেন?’
লির মতে, এভাবে একজন বোলার ১০ থেকে ১৫ বছর কিংবা তারও বেশি সময় ক্যারিয়ার ধরে রেখে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা ভাবতে পারেন।
তবে এর সঙ্গে শরীরের ওপর চাপ কমানোর বিষয়টিও জড়িত বলে মনে করেন তিনি।
১৩৫-১৪০ কিলোমিটার কি নিরাপদ পথ?
লি ব্যাখ্যা করেছেন, ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে নিয়মিত বল করতে গেলে শরীরের ওপর স্বাভাবিকভাবেই বেশি চাপ পড়ে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের কথা মাথায় রেখে পেসাররা হয়তো তাই তুলনামূলক কম গতির দিকে ঝুঁকছেন।
তাঁর ভাষায়, ‘এভাবে খেলতে হলে আপনাকে ক্রিকেট মাঠে টিকে থাকতে হবে। আর মাঠে টিকে থাকতে গেলে হয়তো ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করার বিষয়টি তাদের আর রোমাঞ্চিত করে না। হয়তো তারা ঘণ্টায় ১৩৫ থেকে ১৪০ কিলোমিটার গতির মাঝামাঝি একটা নিরাপদ জায়গায় থাকতে চায়। এতে শরীরের ওপর চাপও কম পড়ে।’
তবে বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন লি।
‘আমার কাছে এটা উদ্বেগের বিষয়। কারণ, আপনি তো দেখতে চান বোলাররা দৌড়ে এসে দ্রুতগতিতে বল করছে।’
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটই কি বদলে দিচ্ছে ফাস্ট বোলিং?
বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বিস্তারের ফলে পেসারদের সামনে এখন বড় অঙ্কের অর্থ উপার্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একাধিক লিগে নিয়মিত খেলতে হলে অবশ্য দীর্ঘ সময় ফিট থাকা জরুরি।
ব্রেট লির আশঙ্কা, এই বাস্তবতায় বোলাররা হয়তো সর্বোচ্চ গতি বের করার চেয়ে শরীরকে দীর্ঘ সময় সুস্থ রাখা এবং ক্যারিয়ার টিকিয়ে রাখাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
ফলে প্রশ্ন উঠছে—ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের অর্থনৈতিক বাস্তবতা কি আধুনিক ফাস্ট বোলিংয়ের চরিত্র বদলে দিচ্ছে? নাকি ১৫০-১৬০ কিলোমিটার গতির বোলিংয়ের রোমাঞ্চ আবারও ফিরবে?
ব্রেট লি অন্তত চান, তরুণ পেসাররা ভয় না পেয়ে গতির সীমাকে চ্যালেঞ্জ করুক।















