Image

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের চাপে কি কমছে ফাস্ট বোলারদের গতি? উদ্বেগে ব্রেট লি

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 3 ঘন্টা আগেআপডেট: 1 ঘন্টা আগে
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের চাপে কি কমছে ফাস্ট বোলারদের গতি? উদ্বেগে ব্রেট লি

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের চাপে কি কমছে ফাস্ট বোলারদের গতি? উদ্বেগে ব্রেট লি

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের চাপে কি কমছে ফাস্ট বোলারদের গতি? উদ্বেগে ব্রেট লি

ব্যাটসম্যানের কানের পাশ দিয়ে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে ছুটে যাওয়া বল—ফাস্ট বোলিংয়ের এই রোমাঞ্চ কি আধুনিক ক্রিকেটে ক্রমেই কমে আসছে? অস্ট্রেলিয়ার সাবেক গতিতারকা ব্রেট লির আশঙ্কা, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বিপুল অর্থ এবং দীর্ঘ ক্যারিয়ার ধরে রাখার চিন্তায় পেসাররা হয়তো নিজেদের গতির লাগাম টেনে ধরছেন।

উইজডেনের ‘স্কুপ এক্সটেন্ডেড’ অনুষ্ঠানে লি বলেছেন, বর্তমানে নিয়মিত ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে বল করতে পারেন, এমন বোলারের সংখ্যা কম। তরুণ পেসারদের মধ্যে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতির সীমা ছোঁয়ার চেষ্টা দেখতে চান তিনি।

লি বলেন, ‘আমি চাই বোলাররা ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতির সীমাকে চ্যালেঞ্জ করুক। কিন্তু এখন তেমনটা দেখছি না। তরুণ ফাস্ট বোলারদের দৌড়ে এসে প্রচণ্ড গতিতে আগুনে সব বল করতে দেখতে চাই আমি।’

গতির রেকর্ডে লি ও শোয়েব আখতার

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুতগতির বোলারদের একজন ব্রেট লি। ২০০৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘণ্টায় ১৬০.৮ কিলোমিটার গতিতে বল করেছিলেন তিনি। তাঁর চেয়ে বেশি গতিতে বল করার স্বীকৃত রেকর্ড রয়েছে পাকিস্তানের শোয়েব আখতারের। ২০০৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘণ্টায় ১৬১.৩ কিলোমিটার গতিতে বল করেছিলেন শোয়েব।

এরপর খুব কম বোলারই ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটারের সীমা ছুঁতে পেরেছেন। আধুনিক ক্রিকেটেও নিয়মিত ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করতে পারেন, এমন পেসারের সংখ্যা হাতে গোনা।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট কি গতির পথে বাধা?

লি মনে করেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বিস্তার এবং আর্থিক লাভের হিসাব পেসারদের বোলিংয়ের ধরনে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগে খেলে বড় অঙ্কের অর্থ উপার্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে একাধিক লিগে নিয়মিত খেলতে হলে ফিটনেস ধরে রাখা এবং চোট এড়িয়ে চলাও জরুরি।

তাই বোলাররা সর্বোচ্চ গতিতে বল করার চেয়ে দীর্ঘদিন খেলা এবং ক্যারিয়ার থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক এই অস্ট্রেলীয় পেসার।

লি বলেন, ‘বোলাররা কি এখন দীর্ঘ মেয়াদে খেলার কথা ভাবছেন, ক্যারিয়ার কত দিন টিকবে, সেটা নিয়ে চিন্তা করছেন? তাঁরা কি ভাবছেন, বিশ্বের সাত-আটটি আলাদা ফ্র্যাঞ্চাইজিতে খেলার সুযোগ পাবেন, সেখান থেকে মোটা অঙ্কের অর্থও আয় করবেন? এভাবে হয়তো ১৫–২০ বছর, কিংবা অন্তত ১০ বছর খেলতে পারবেন এবং বাকি জীবনের জন্য আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন?’

১৩৫–১৪০ কিলোমিটার গতিতে নিরাপদ থাকার প্রবণতা?

লি মনে করেন, দীর্ঘ ক্যারিয়ার ধরে রাখার চিন্তা থেকে পেসাররা হয়তো নিজেদের সর্বোচ্চ গতিতে বল করার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। তাঁর ধারণা, ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে বল করার পরিবর্তে কেউ কেউ ১৩৫ থেকে ১৪০ কিলোমিটার গতির মধ্যে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে পারেন। এতে শরীরের ওপর চাপও তুলনামূলকভাবে কম পড়তে পারে।

এ বিষয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়ে লি বলেন, ‘এভাবে খেলতে হলে আপনাকে ক্রিকেট মাঠে টিকে থাকতে হবে। আর মাঠে টিকে থাকতে গেলে হয়তো ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করার বিষয়টি তাদের আর রোমাঞ্চিত করে না। হয়তো তারা ঘণ্টায় ১৩৫ থেকে ১৪০ কিলোমিটার গতির মাঝামাঝি একটা নিরাপদ জায়গায় থাকতে চায়। এতে শরীরের ওপর চাপও কম পড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে এটা উদ্বেগের বিষয়। কারণ, আপনি তো দেখতে চান বোলাররা দৌড়ে এসে দ্রুতগতিতে বল করছে।’

লির এই মন্তব্যে আধুনিক ক্রিকেটে ফাস্ট বোলিংয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে পেসারদের গতি কমে যাওয়ার পেছনে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটই প্রধান কারণ কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও তথ্য ও পরিসংখ্যান প্রয়োজন।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three