৫৮ বছর পর রিয়ালের কীর্তি ছুঁয়ে বার্সেলোনার ‘নয়ে নয়’

৫৮ বছর পর রিয়ালের কীর্তি ছুঁয়ে বার্সেলোনার ‘নয়ে নয়’
৫৮ বছর পর রিয়ালের কীর্তি ছুঁয়ে বার্সেলোনার ‘নয়ে নয়’
বার্সেলোনার ফুটবল এখন যেন লাগামছাড়া আনন্দের এক প্রদর্শনী। গোল করছে, আবার গোলও হজম করছে। তবে প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি গোল করার আত্মবিশ্বাসে যেন কোনো ঘাটতি নেই। রিয়াল বেতিসের বিপক্ষেও দেখা গেল সেই চেনা চিত্র। সাত গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচ শেষে ৫–২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল হান্সি ফ্লিকের দল।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে লা লিগায় নিজেদের দুর্দান্ত ছুটে চলা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ৫৮ বছরের পুরোনো একটি কীর্তিও ছুঁয়েছে বার্সেলোনা। লা লিগার ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় দল হিসেবে মৌসুমের প্রথম নয় ম্যাচের সবকটিতে জয়ের রেকর্ড গড়েছে তারা। এর আগে ১৯৬৮ সালে এই কীর্তি গড়েছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ।
বেতিসের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বার্সেলোনা। মাত্র ১০ মিনিটেই লামিনে ইয়ামালের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। ফাকুন্দো বের্নালকে পায়ের কারুকাজে পরাস্ত করে বক্সের প্রান্ত থেকে বাঁকানো শটে জালের ওপরের কোণায় বল পাঠান বার্সার তরুণ তারকা। গোলটির সৌন্দর্যের পাশাপাশি ইয়ামালের ড্রিবলিংও ছিল দেখার মতো।

তবে পিছিয়ে পড়ে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় বেতিস। ভালেন্তিন গোমেজের গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকেরা। এরপর ম্যাচে তৈরি হয় একের পর এক উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত। গোলের সুযোগ, দারুণ আক্রমণ, ড্রিবলিং—সব মিলিয়ে ম্যাচটি রূপ নেয় সাত গোলের এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে বার্সেলোনা। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে গোল করেন এরিক গার্সিয়া ও দানি ওলমো। তাঁদের গোলে বেতিসের ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ আশাটুকুও শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৫–২ গোলের জয় নিশ্চিত করে বার্সেলোনা।
এই জয়ের সবচেয়ে বড় বার্তা অবশ্য এসেছে বার্সেলোনার আক্রমণভাগ থেকে। মৌসুমের প্রথম নয় ম্যাচে নয় জয় পেয়েছে ফ্লিকের দল। এই নয় ম্যাচে তারা করেছে অবিশ্বাস্য ৩৯ গোল—ম্যাচপ্রতি গড়ে চারটিরও বেশি।
টানা তৃতীয়বার লা লিগার শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে ছুটছে বার্সেলোনা। এখন পর্যন্ত তাদের পারফরম্যান্স দেখে মনে হচ্ছে, এই ছুটে চলা থামানো প্রতিপক্ষদের জন্য কঠিনই হতে যাচ্ছে। বরং বার্সেলোনার প্রতিপক্ষদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের গোলের হিসাব রাখা।
তবে বড় জয়ের পরও ফ্লিকের জন্য কিছুটা চিন্তার জায়গা থাকছে। সেটি দলের রক্ষণভাগ। আক্রমণে বার্সেলোনা যতটা ভয়ংকর, মাঝেমধ্যেই রক্ষণে ততটাই নড়বড়ে দেখা যাচ্ছে। বেতিসের বিপক্ষেও দুই গোল হজম করেছে তারা। মৌসুমের সামনে আরও কঠিন ম্যাচ অপেক্ষা করছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই রক্ষণগত দুর্বলতা যে বিপদ ডেকে আনতে পারে, সেটি নিশ্চয়ই মাথায় রাখবেন ফ্লিক।

তবু আপাতত রক্ষণ নিয়ে সেই দুশ্চিন্তাকে আড়াল করে রাখছে বার্সেলোনার বিধ্বংসী আক্রমণভাগ। নয় ম্যাচে নয় জয় এবং ৩৯ গোল—এমন শুরুর পর প্রশ্ন একটাই, এই দুরন্ত বার্সেলোনাকে থামাবে কে?












