Image

মেসিকে পেছনে ফেলে ‘ব্যালন ডি’অর অব অলটাইম’ রোনালদোর

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 1 ঘন্টা আগেআপডেট: 3 মিনিট আগে
মেসিকে পেছনে ফেলে ‘ব্যালন ডি’অর অব অলটাইম’ রোনালদোর

মেসিকে পেছনে ফেলে ‘ব্যালন ডি’অর অব অলটাইম’ রোনালদোর

মেসিকে পেছনে ফেলে ‘ব্যালন ডি’অর অব অলটাইম’ রোনালদোর

ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দ্বৈরথ নতুন কিছু নয়। তবে এবার লড়াইটা তাঁদের ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম নিয়ে। আর সেই লড়াইয়েও শেষ হাসি হাসলেন রোনালদো।

ব্যালন ডি’অরের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ ফ্যান ভোট ‘ব্যালন ডি’অর অব অলটাইম’ (BOAT)-এ সেরা নির্বাচিত হয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ২০০৮ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম। দ্বিতীয় হয়েছে লিওনেল মেসির ২০১২ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম।

ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছিল ১ অক্টোবর এবং শেষ হয় ২৭ অক্টোবর। সাধারণ দর্শকদের ভোটে নির্ধারিত এই বিশেষ স্বীকৃতিতে প্রতিটি ভোটের জন্য ১ ইউরো করে দিতে হয়েছে এবং একজন চাইলে একাধিকবার ভোট দিতে পেরেছেন।

রোনালদোর ২০০৮, মেসির ২০১২

রোনালদো তাঁর প্রথম ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ২০০৮ সালে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দুর্দান্ত ২০০৭–০৮ মৌসুম কাটানোর পর। সেবার সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪২ গোল করেছিলেন পর্তুগিজ তারকা। এর মধ্যে প্রিমিয়ার লিগে ৩১টি গোল ছিল।

ইউনাইটেড সেই মৌসুমে জিতেছিল প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ। মস্কোয় চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে চেলসির বিপক্ষে রোনালদো গোলও করেছিলেন। সেই দুর্দান্ত মৌসুমের স্বীকৃতি হিসেবে পান ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি’অর।

অন্যদিকে মেসির ২০১২ সালের মৌসুম ছিল ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিক থেকে অবিশ্বাস্য। সেই পঞ্জিকাবর্ষে ৯১ গোল করে নতুন রেকর্ড গড়েছিলেন বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। ২০১২ সালের ব্যালন ডি’অর ছিল তাঁর টানা চতুর্থ জয়।

শেষ পর্যন্ত দুই কিংবদন্তির সেই দুই মৌসুমের লড়াইয়ে এগিয়ে যায় রোনালদোর ২০০৮।

ভোটে রোনালদো–মেসির দাপট

চূড়ান্ত র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রথম ১২টি স্থানই দখল করেছে মেসি ও রোনালদোর ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুমগুলো। তালিকার শীর্ষে রোনালদো ২০০৮, এরপর মেসি ২০১২, রোনালদো ২০১৭, মেসি ২০২৩ এবং রোনালদো ২০১৬।

শীর্ষ ১২-এর তালিকাটি হলো—

  1. ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো — ২০০৮

  2. লিওনেল মেসি — ২০১২

  3. ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো — ২০১৭

  4. লিওনেল মেসি — ২০২৩

  5. ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো — ২০১৬

  6. ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো — ২০১৪

  7. লিওনেল মেসি — ২০১৫

  8. ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো — ২০১৩

  9. লিওনেল মেসি — ২০১১

  10. লিওনেল মেসি — ২০০৯

  11. লিওনেল মেসি — ২০১৯

  12. লিওনেল মেসি — ২০২১

মেসি–রোনালদোর আধিপত্যের পর ১৩ নম্বরে উঠে এসেছে ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিওর ২০০২ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম।

কারা ছিলেন এই বিশেষ ভোটে?

BOAT-এর জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল অন্তত দুবার ব্যালন ডি’অর জেতা ১০ কিংবদন্তিকে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন—

  • লিওনেল মেসি — ৮টি

  • ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো — ৫টি

  • ইয়োহান ক্রুইফ — ৩টি

  • মিশেল প্লাতিনি — ৩টি

  • মার্কো ফন বাস্তেন — ৩টি

  • ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার — ২টি

  • কার্ল–হেইঞ্জ রুমেনিগে — ২টি

  • রোনালদো নাজারিও — ২টি

  • কেভিন কিগান — ২টি

  • আলফ্রেড ডি স্টেফানো — ২টি

এখানে ভোট ছিল খেলোয়াড়কে বেছে নেওয়ার জন্য নয়; বরং তাঁদের কোন ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুমটি সেরা, সেটি নির্ধারণের জন্য।

ভোট নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন

একাধিকবার ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকায় ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। পরে ব্যালন ডি’অরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মোট ৫,০০৯ জন ব্যবহারকারী একাধিকবার ভোট দিয়েছেন।

তাঁদের মধ্যে ৪৪ জন ১০ থেকে ২৬ বার, ৩০০ জন ৫ থেকে ৯ বার এবং ৪,৬৬৫ জন ২ থেকে ৪ বার ভোট দিয়েছেন। অর্থাৎ এটি ছিল সাধারণ ব্যালন ডি’অরের মতো সাংবাদিকদের ভোট নয়, বরং অর্থ দিয়ে অংশ নেওয়া একটি ফ্যান ভোট।

তাই BOAT-এর ফলকে ব্যালন ডি’অরের মূল পুরস্কারের সমতুল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসের সেরা জয়ী মৌসুম নিয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ জনপ্রিয় ভোট।

রোনালদোর ২০০৮ মৌসুম কেন এত আলোচনায়?

২০০৭–০৮ মৌসুমে রোনালদো ছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু। প্রিমিয়ার লিগে ৩১ গোল, সব প্রতিযোগিতায় ৪২ গোল এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা—সব মিলিয়ে সেটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মৌসুম।

এরপর রিয়াল মাদ্রিদে গিয়ে আরও চারটি ব্যালন ডি’অর জেতেন রোনালদো—২০১৩, ২০১৪, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে। অর্থাৎ ২০০৮ সালের পুরস্কারটি ছিল তাঁর পাঁচ ব্যালন ডি’অরের প্রথমটি।

অন্যদিকে মেসি ব্যালন ডি’অর জিতেছেন রেকর্ড আটবার। ২০১২ সালের সেই চতুর্থ জয়টি ছিল তাঁর টানা চার বছরের আধিপত্যের অংশ।

শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের সেরা ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম নিয়ে আয়োজিত ভোটে রোনালদোর ২০০৮ উঠে এসেছে সবার ওপরে।

মেসি–রোনালদোর দীর্ঘ দ্বৈরথে তাই আরও একটি অধ্যায় যোগ হলো—এবারও জয় রোনালদোর।

Details Bottom