ইনফান্তিনোর ‘বাড়তি আয়’ নিয়ে বিতর্ক, ২১ কোটি টাকার তথ্য প্রকাশ করেনি ফিফা
- 1
লাল কার্ডে ভেঙে পড়ল লিভারপুল, অ্যানফিল্ডে ৩ গোলে জিতল সিটি
- 2
অভিষেকের ঝড়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৪ রানে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে ভারত
- 3
সাদাকাত-ফারহানের ঝড়ে শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে পাকিস্তানের সিরিজ জয়
- 4
ট্রাবজোনস্পোরে সালাহর দুর্দান্ত শুরু, প্রথম সাত ম্যাচেই ১০ গোলে অবদান
- 5
অ্যানফিল্ডে সিটি সমর্থকেরা কলা দেখালেন কেন? জানুন ৪০ বছরের পুরোনো গল্প

ইনফান্তিনোর ‘বাড়তি আয়’ নিয়ে বিতর্ক, ২১ কোটি টাকার তথ্য প্রকাশ করেনি ফিফা
ইনফান্তিনোর ‘বাড়তি আয়’ নিয়ে বিতর্ক, ২১ কোটি টাকার তথ্য প্রকাশ করেনি ফিফা
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর অতিরিক্ত আয় নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ফিফা থেকে নিয়মিত বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান এফডব্লিউসি-২০২৬ থেকেও মোটা অঙ্কের অর্থ পেয়েছেন তিনি। তবে ফিফার ২০২৪ সালের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে ওই অর্থের তথ্য উল্লেখ না থাকায় সংস্থাটির স্বচ্ছতা ও নিজস্ব গঠনতন্ত্র মেনে চলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ফিফা ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের (আইআরএস) নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এফডব্লিউসি-২০২৬ থেকে ১৭ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পেয়েছেন ইনফান্তিনো। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২১ কোটি টাকা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমদ্য টাইমসপ্রথম এ তথ্য প্রকাশ করে।
এক বছরে আয় প্রায় ৮০ কোটি টাকা
এফডব্লিউসি-২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান, যেটি ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজন ও পরিচালনার জন্য গঠন করেছিল ফিফা। যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিবছর আইআরএসের কাছে ‘ফর্ম ৯৯০’ নামে আর্থিক বিবরণী জমা দিতে হয়। সেই নথি থেকেই ইনফান্তিনোর অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।
২০২৪ সালে ফিফা থেকে বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাবদ ৪২ লাখ ৭৪ হাজার সুইস ফ্রাঁ পেয়েছিলেন ইনফান্তিনো। সে সময়ের হিসাবে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৮ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৯ কোটি টাকা।
এফডব্লিউসি-২০২৬ থেকে পাওয়া অর্থসহ ২০২৪ সালে ইনফান্তিনোর মোট আয় দাঁড়ায় প্রায় ৬৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৮০ কোটি টাকা। কিন্তু ফিফার বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে এফডব্লিউসি-২০২৬ থেকে পাওয়া অতিরিক্ত ১৭ লাখ ২০ হাজার ডলারের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
ফিফার গঠনতন্ত্র কি লঙ্ঘিত হয়েছে?
ফিফার গঠনতন্ত্রের ৪৩ নম্বর অনুচ্ছেদের ১৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, সংস্থাটির পারিশ্রমিক নির্ধারণসংক্রান্ত উপকমিটি ফিফা সভাপতি, কাউন্সিলের সদস্য ও মহাসচিবের পারিশ্রমিক নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে তাঁদের ব্যক্তিগত পারিশ্রমিকের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করাও বাধ্যতামূলক।
তবে ফিফা কোনো নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ মানতে রাজি নয়। এ বিষয়ে ইএসপিএনকে দেওয়া এক বক্তব্যে ফিফার এক মুখপাত্র বলেন, সংস্থাটি তথ্য প্রকাশসংক্রান্ত সব শর্ত পুরোপুরি মেনে চলে। ফিফার গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে যে ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, তা তারা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।
অন্যদিকে, ফিফার পরিচালনাবিষয়ক কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মিগেল মাদুরো বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন।দ্য টাইমস-কে তিনি বলেন, ফিফার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ইনফান্তিনো অতিরিক্ত অর্থ পেয়ে থাকলে এবং তা প্রকাশ না করা হলে সেটি স্পষ্টতই নিয়মের লঙ্ঘন হতে পারে। তাঁর মতে, ফিফার গঠনতন্ত্রে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
বিশ্বকাপের মালিকানা বিক্রির পরিকল্পনা নিয়েও বিতর্ক
ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। চলতি বছরের শুরুতে ২০২৬ বিশ্বকাপের ২০ শতাংশ মালিকানা বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির একটি পরিকল্পনার খবর সামনে আসে। ‘ফুটবল ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজেস’ নামের ওই পরিকল্পনায় বিনিয়োগকারী দলের নেতৃত্বে ছিলেন জশুয়া কুশনার, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ছোট ভাই।
২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ট্রাম্পের সঙ্গে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। হোয়াইট হাউসে তাঁকে নিয়মিত দেখা গেছে। বিশ্বকাপের মালিকানার অংশ বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে ফুটবল প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। উয়েফা, কনক্যাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) প্রধানেরা ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেন। ভবিষ্যতে ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতা বর্জনের হুমকিও দিয়েছিল উয়েফা।
পরে তিন মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেন ইনফান্তিনো। তাঁদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ফিফার প্রতিটি সদস্যদেশের ফুটবল সংস্থাকে এক কোটি ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাবে সম্মতি জানান তিনি।
শৃঙ্খলাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা
বিশ্বকাপ চলাকালে শৃঙ্খলাসংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ইনফান্তিনো। শেষ ৩২-এর ম্যাচে বসনিয়াকে ২-০ গোলে হারায় যুক্তরাষ্ট্র। সেই ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন। নিয়ম অনুযায়ী, শেষ ষোলোয় বেলজিয়ামের বিপক্ষে তাঁর খেলার কথা ছিল না।
তবে বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইনফান্তিনোকে ফোন করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর বালোগুনের শাস্তি স্থগিত রেখে তাঁকে পরীক্ষামূলক পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পান তিনি। যদিও সেই ম্যাচে ৪-১ গোলে হেরে যায় যুক্তরাষ্ট্র।
এমন নানা বিতর্কের মধ্যেই আগামী বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জুরিখে বসার কথা ফিফা কাউন্সিলের পরবর্তী সভা। ইনফান্তিনোর অতিরিক্ত আয় নিয়ে ওঠা প্রশ্ন সেখানে আলোচনায় আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর থাকবে ফুটবলবিশ্বের।















