স্টার্কের তাণ্ডবে কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন
- 1
ব্যালন ডি’অর বিজয়ীদের তালিকা: ১৯৫৬ থেকে ২০২৬
- 2
ব্যালন ডি’অরের রাতে সানসা স্টার্ক, বার্না বয় ও আরও তারকার ঝলক
- 3
ব্যালন ডি’অর ২০২৬: কে কোন পুরস্কার জিতলেন, এক নজরে
- 4
মাও সে–তুংকে নিয়ে মিমের বিতর্কে এমবাপ্পে, সম্পর্ক ছিন্ন করল চীনের দুই প্রতিষ্ঠান
- 5
ব্যয় কমাতে ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার সুযোগ দিল মাইক্রোসফট

স্টার্কের তাণ্ডবে কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন
স্টার্কের তাণ্ডবে কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন
কেপটাউনে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় টেস্টের প্রথম দিনটা যেন দুই দলের দুই রকম গল্প। দিনের শুরুতে দাপট ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার, শেষটা নিজেদের করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ১৫৮ রানে কোনো উইকেট না হারানো স্বাগতিকদের শেষ পর্যন্ত ৩২৯ রানে অলআউট করে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আর এই প্রত্যাবর্তনের নায়ক মিচেল স্টার্ক।
দারুণ এক বোলিংয়ে ১৬.৩ ওভারে ৭২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি এই পেসার। এটি টেস্ট ক্রিকেটে স্টার্কের ২০তম পাঁচ উইকেটের শিকার। দিনের শেষদিকে দ্বিতীয় নতুন বল হাতে তাঁর ভয়ংকর স্পেলে দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ চার ব্যাটারকে মাত্র ১১ বলের মধ্যে ফিরতে হয়েছে।
১৫৮ রানে কোনো উইকেট নেই, সেখান থেকে ধস
টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাটিংয়ে পাঠান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। শুরুতে তাঁর সিদ্ধান্ত খুব একটা কাজে দিচ্ছিল না। মার্কেস অ্যাকারম্যান ও এইডেন মার্করাম মিলে গড়ে তোলেন ১৫৮ রানের উদ্বোধনী জুটি।
অভিষেকের পর নিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা অ্যাকারম্যান ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ছিল ১৪০/০। শেষ পর্যন্ত ৯৪ বলে ৯৫ রান করেন অ্যাকারম্যান, মেরেছেন ১২টি চার ও ২টি ছক্কা।
দলীয় ১৫৮ রানে নাথান লায়নের বলে স্টাম্পড হয়ে অ্যাকারম্যান ফিরতেই ম্যাচের চিত্র বদলাতে শুরু করে।

মার্করামের পর দ্রুত উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা
অ্যাকারম্যান ফেরার পর মার্করাম ও ডেভিড বেডিংহাম কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ২০৩ রানে মার্করামকে জশ হ্যাজলউড ফিরিয়ে দিলে আবারও চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।
৭৮ রানের ইনিংসে মার্করাম মেরেছেন ১০টি চার ও একটি ছক্কা। এরপর নাথান লায়নের দুর্দান্ত বলে শূন্য রানে বোল্ড হন অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। কুপার কনোলির বলে ম্যাথু ব্রিটস্কেও মাত্র ২ রানে ফিরে যান।
এরপর বেডিংহামও ৫০ রান করে স্টার্কের শিকার হলে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর দাঁড়ায় ২৩২/৬।
৯৫ রানের জুটিতে আবার ঘুরে দাঁড়ায় প্রোটিয়ারা
ছয় উইকেট পড়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল, দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। কিন্তু রায়ান রিকেলটন ও মার্কো ইয়ানসেন পাল্টা লড়াই শুরু করেন।
সপ্তম উইকেটে দুজন মিলে যোগ করেন ৯৫ রান। ইয়ানসেন আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৭১ বলে ৫২ রান করেন। রিকেলটন করেন ৮৩ বলে ৪২।
তাদের জুটিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ৩০০ পার করে এবং শেষ পর্যন্ত ৩২৯ রানে পৌঁছে যায়। মনে হচ্ছিল, দিনের শেষটা হয়তো স্বাগতিকদের পক্ষেই যাবে। কিন্তু তখনই নতুন বল হাতে নেন স্টার্ক।
নতুন বলে স্টার্কের ভয়ংকর স্পেল
নতুন বল হাতে নিয়েই ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেন স্টার্ক। প্রথমে রায়ান রিকেলটনকে এলবিডব্লিউ করেন। দুই বল পর মার্কো ইয়ানসেনকে বোল্ড করে তুলে নেন নিজের চতুর্থ উইকেট।
পরের ওভারে জেরাল্ড কোয়েটজিকে বোল্ড করে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন স্টার্ক। এরপর মাত্র দুই বল পর কাগিসো রাবাদাকেও এলবিডব্লিউ করে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস শেষ করে দেন তিনি।
অর্থাৎ শেষ চার উইকেটই স্টার্ক নিয়েছেন মাত্র ১১ বলের মধ্যে। তাঁর বোলিং ফিগার থামে ১৬.৩–২–৭২–৬-এ।
চার পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে অস্ট্রেলিয়া
গেবেখায় সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ৩১ রানে হারের পর একাদশে চারটি পরিবর্তন আনে অস্ট্রেলিয়া।
ঘাড়ের চোটের কারণে খেলতে পারেননি স্টিভ স্মিথ। একাদশ থেকে বাদ পড়েন নিক ম্যাডিনসন, বো ওয়েবস্টার ও স্কট বোল্যান্ড। তাদের জায়গায় সুযোগ পান ক্যামেরন গ্রিন, জশ ইংলিস, কুপার কনোলি ও নাথান লায়ন।
সিরিজ বর্তমানে ১–১ সমতায় থাকায় কেপটাউনের এই টেস্টই নির্ধারণ করবে শেষ পর্যন্ত সিরিজ কার দখলে যায়। প্রথম দিন শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা ৩২৯ রানে অলআউট হওয়ায় ব্যাট হাতে এখন অস্ট্রেলিয়ার পালা।
ম্যাচের উল্লেখযোগ্য স্কোর

দক্ষিণ আফ্রিকা: ৩২৯ অলআউট
মার্কেস অ্যাকারম্যান ৯৫, এইডেন মার্করাম ৭৮, ডেভিড বেডিংহাম ৫০, মার্কো ইয়ানসেন ৫২
অস্ট্রেলিয়ার বোলিং:
মিচেল স্টার্ক ৬/৭২, নাথান লায়ন ২/৭১, জশ হ্যাজলউড ১/৫৯, কুপার কনোলি ১/৪১।














