ব্যয় কমাতে ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার সুযোগ দিল মাইক্রোসফট
- 1
মরিনিওর শেষ এল ক্লাসিকোর সেই ১১ তারকা এখন কোথায়, কী করছেন তাঁরা?
- 2
আবারও বিতর্কে নেইমার, ভিএআরে লাল কার্ডের পর প্রতিপক্ষকে হুমকি
- 3
স্তন ক্যানসার সচেতনতায় পাকিস্তানের জার্সি গোলাপি, গাদ্দাফি স্টেডিয়ামেও রঙের ছোঁয়া
- 4
‘এমন ইনিংস জীবনে কখনও দেখিনি’, শাদাবকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত আফ্রিদি
- 5
চাপের মুখে তিলকের ঝলক, রান তাড়ায় শতভাগ জয়ের অনন্য রেকর্ড

ব্যয় কমাতে ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার সুযোগ দিল মাইক্রোসফট
ব্যয় কমাতে ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার সুযোগ দিল মাইক্রোসফট
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) অবকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি ব্যয় কমাতে কর্মীসংখ্যা পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে মাইক্রোসফট। এর অংশ হিসেবে প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার সুযোগ দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।
মাইক্রোসফটের নতুন এই কর্মসূচির নাম Voluntary Exit Offer (VEO)। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি কোনো বাধ্যতামূলক ছাঁটাই নয়। বরং নির্দিষ্ট বিভাগের যোগ্য কর্মীরা চাইলে আর্থিক সুবিধা ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় সহায়তা নিয়ে স্বেচ্ছায় প্রতিষ্ঠান ছাড়তে পারবেন।
৬০ হাজার কর্মী কেন এই সুযোগ পাচ্ছেন?
মাইক্রোসফটের প্রধান পিপল অফিসার অ্যামি কোলম্যান কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় জানিয়েছেন, নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে যেসব কর্মী ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির বাইরে ক্যারিয়ার গড়ার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য একটি অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে এই কর্মসূচি মাইক্রোসফটের বিভিন্ন বিভাগকে নিজেদের পরিবর্তিত ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মী কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সুযোগ দেবে।
তবে মাইক্রোসফট সরাসরি বলেনি যে ৬০ হাজার কর্মীকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। বরং প্রায় ৬০ হাজার কর্মী এই অফারের জন্য যোগ্য হতে পারেন। তাদের মধ্যে কতজন শেষ পর্যন্ত চাকরি ছাড়বেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
কোন কোন দেশের কর্মীরা সুযোগ পাবেন?
মাইক্রোসফট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও ভারতের নির্দিষ্ট কিছু বিভাগের কর্মীরা এই Voluntary Exit Offer-এর আওতায় থাকবেন।
প্রোগ্রামটি মাইক্রোসফটের অভ্যন্তরীণ লেভেল ৭০ এবং এর নিচের যোগ্য কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য। তবে সব বিভাগ এতে অংশ নিচ্ছে না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু বিক্রয়, মার্কেটিং, ইঞ্জিনিয়ারিং ও অন্যান্য নির্দিষ্ট বিভাগ এই কর্মসূচির বাইরে রয়েছে।
কী সুবিধা পাবেন কর্মীরা?
স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়তে রাজি হওয়া কর্মীদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনার সুবিধা রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত প্যাকেজগুলো মাইক্রোসফটের প্রচলিত severance কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানিয়েছে কোম্পানি।
Business Insider-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মীর পদমর্যাদা ও চাকরির মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে সুবিধার পরিমাণ আলাদা হতে পারে। কিছু কর্মীর ক্ষেত্রে বেতন, স্বাস্থ্যসুবিধা এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্টক ভেস্টিংয়ের সুবিধাও থাকতে পারে।
যোগ্য কর্মীদের ডিসেম্বরের শুরুর দিকে সিদ্ধান্ত জানানোর সুযোগ থাকবে। যারা অফার গ্রহণ করবেন, তাদের চাকরি বছরের শেষ দিকে শেষ হওয়ার কথা।
AI বিনিয়োগের চাপ কি এর পেছনে?
মাইক্রোসফটের অফিসিয়াল ঘোষণায় AI বিনিয়োগকে এই কর্মসূচির সরাসরি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে AI অবকাঠামো, ডেটা সেন্টার ও নতুন প্রযুক্তিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৬ সালে মাইক্রোসফটের মূলধনী ব্যয়ের পূর্বাভাস প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার, যার বড় অংশ AI অবকাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মী কাঠামোকে নতুন ব্যবসায়িক বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
মাইক্রোসফটের ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত পূর্ণকালীন কর্মীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার। সেই হিসাবে ৬০ হাজার কর্মী এই অফারের জন্য যোগ্য হওয়া প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীসংখ্যার এক-চতুর্থাংশেরও বেশি। তবে যোগ্য সবাই যে চাকরি ছাড়বেন, এমন কোনো তথ্য নেই।
এর আগেও কর্মী কমানোর উদ্যোগ নিয়েছিল মাইক্রোসফট
এটি মাইক্রোসফটের ২০২৬ সালের প্রথম স্বেচ্ছাভিত্তিক কর্মী কমানোর উদ্যোগ নয়। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি অবসর নেওয়ার উপযুক্ত কর্মীদের জন্য একটি Voluntary Retirement Program চালু করেছিল।
প্রায় ৮ হাজার ৭৫০ কর্মী ওই কর্মসূচির আওতায় ছিলেন এবং তাদের মধ্যে ৩০ শতাংশের বেশি কর্মী প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছিলেন। এর পাশাপাশি চলতি বছরে মাইক্রোসফট প্রায় ৪ হাজার ৮০০টি পদ বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছিল, বিশেষ করে Xbox ও বাণিজ্যিক ব্যবসার কিছু অংশে।
মাইক্রোসফটের কর্মী কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
নতুন Voluntary Exit Offer থেকে বোঝা যাচ্ছে, মাইক্রোসফট কর্মীসংখ্যা শুধু কমানোর চেয়ে বরং প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মী কাঠামো পুনর্গঠনের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবর্তিত ব্যবসায়িক প্রয়োজন, নতুন দক্ষতা এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর কাজের সঙ্গে কর্মী কাঠামোকে সামঞ্জস্য করাই এর অন্যতম লক্ষ্য।
তবে ৬০ হাজার কর্মীর মধ্যে শেষ পর্যন্ত কতজন চাকরি ছাড়বেন, তা জানা যাবে কর্মীদের সিদ্ধান্তের পর। আপাতত মাইক্রোসফটের এই উদ্যোগ প্রযুক্তি খাতে চলমান ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং AI-কেন্দ্রিক বিনিয়োগের প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।















