ফিফা নেতৃত্ব সংকটে ইনফান্তিনোর পাশে ট্রাম্প
- 1
বায়ার্নেই থাকতে চান হ্যারি কেইন, নতুন চুক্তির পথে বড় অগ্রগতি
- 2
রোনালদোর মতো ৪১ বছর পর্যন্ত ফ্রান্সে খেলা সম্ভব নয়: এমবাপ্পে
- 3
মারায়া কেরিকে পেছনে ফেলে বিলবোর্ডে নতুন রেকর্ড এলা ল্যাংলির
- 4
ভারতের সবচেয়ে ধনী অভিনেতা শাহরুখ খান, সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি রুপি
- 5
সাঁতারে ১৭ বছরেই বিশ্ব রেকর্ড, এশিয়ান গেমসে ইতিহাস গড়লেন জাপানের শিন ওহাশি

ফিফা নেতৃত্ব সংকটে ইনফান্তিনোর পাশে ট্রাম্প
ফিফা নেতৃত্ব সংকটে ইনফান্তিনোর পাশে ট্রাম্প
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব বিক্রির পরিকল্পনা এখন তার জন্য বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। তীব্র সমালোচনা ও ব্যাপক চাপের মুখে ফিফা শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি বাতিল করতে বাধ্য হলেও বিতর্ক থামেনি। উয়েফা, কনক্যাকাফ ও এএফসিসহ ফুটবল বিশ্বের বিভিন্ন মহল থেকে এখন ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেই ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইনফান্তিনোকে সরিয়ে দেওয়া হলে ফিফা একটি ‘মারাত্মক ভুল’ করবে।
ট্রাম্পের ভাষায়, ইনফান্তিনোর মতো সফল নেতৃত্ব ফিফা সহজে আর পাবে না।
“কোনো কারণে যদি তারা জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ভেবে থাকে, তাহলে ফিফা বড় ধরনের ভুল করবে। তিনি অসাধারণ একজন মানুষ এবং সম্প্রতি সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপ আয়োজনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি চলে গেলে বিশ্বকাপ আর কখনো এতটা সফল বা লাভজনক হবে না।”
চাপের মুখে ট্রাম্পের সমর্থন খুঁজছিলেন ইনফান্তিনো
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, পদ রক্ষার লড়াইয়ে ইনফান্তিনো কয়েক দিন ধরেই ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পরিকল্পনাটি ভেস্তে যাওয়ার পর তিনি নাকি একাধিকবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। যদি সেই তথ্য সত্যি হয়, তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ইনফান্তিনোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমর্থন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
উয়েফার খোলা চিঠিতে তীব্র সমালোচনা
অন্যদিকে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে উয়েফা, কনক্যাকাফ ও এএফসির যৌথ খোলা চিঠি। সেখানে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন ইভেন্টের অংশীদারিত্ব বিক্রির পরিকল্পনায় “বিচক্ষণতার চরম অভাব” দেখা গেছে। একই সঙ্গে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, তিনি এমনভাবে আচরণ করছেন যেন ফুটবলের সব সিদ্ধান্তের একমাত্র কর্তৃত্ব তার হাতেই।
ট্রাম্প-ইনফান্তিনো সম্পর্ক নিয়েও নতুন বিতর্ক
ফুটবল বিশ্বে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক অনেক দিন ধরেই আলোচনার বিষয়। গত বছর ট্রাম্পকে ফিফার প্রথম শান্তি পুরস্কার দেওয়ায় ইনফান্তিনো সমালোচিত হন। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপেও তাদের কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশ বিক্রির পরিকল্পনা ঘিরে সেই সম্পর্ক আবারও আলোচনায় আসে। প্রস্তাবিত বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল থ্রাইভ ক্যাপিটাল-এর। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা জশুয়া কুশনার হলেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই—এ তথ্য প্রকাশের পর বিতর্ক আরও বেড়ে যায়।
যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি ইনফান্তিনোর সঙ্গে ওই বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে কোনো আলোচনা করেননি।
বয়কটের হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিল উয়েফা
শুরু থেকেই ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফা, কনক্যাকাফ এবং এএফসি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছিল। প্রয়োজন হলে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকিও দিয়েছিল উয়েফা, যা ফিফার জন্য বড় ধরনের সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হয়।
এখন প্রশ্ন একটাই—প্রবল সমালোচনার মুখে ইনফান্তিনো কি এই ঝড় সামলে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারবেন, নাকি ফুটবল বিশ্বের চাপ শেষ পর্যন্ত তাকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করবে?













